ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
নির্ধারিত অফিস সময়েও ত্রিশাল উপজেলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে। এতে করে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে।
রবিবার (২৯ মার্চ ) সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী অফিসে উপস্থিত নেই। এ বিষয়ে সেখানে দায়িত্বরত কয়েকজন কর্মচারীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, ইউএনও বর্তমানে প্রশিক্ষণে রয়েছেন।
একই সময়ে উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ তাজুল রহমানকেও অনুপস্থিত পাওয়া যায়। এ সময় অফিসে ক্যামেরা ধারণ করা হলে তার নাইটগার্ড সাংবাদিককে প্রশ্ন করেন, “অফিস সময় সকাল ১০টা, তাহলে ৯টা ১৫ মিনিটে কেন ক্যামেরা ধারণ করা হচ্ছে?”—যা উপস্থিতদের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।
এছাড়াও সকালবেলায় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এর মধ্যে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিলুফা হাকিম, উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, সমবায় কর্মকর্তা শরীফ আহম্মদ এবং উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শ্যামল সরকার নিজ নিজ অফিসে উপস্থিত ছিলেন না।
পরবর্তীতে সকাল ১০টার দিকে উপজেলা প্রকৌশলী অফিসে গিয়েও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে সকাল ৯টা ২০ মিনিটে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের দরজা বন্ধ। পরে সকাল ১১টার দিকে উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক অফিসে আসেন। সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সামসুজ্জামান মাসুদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি “বইলর নুরুর দোকানে” অবস্থান করছেন।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মাহবুবুর রহমান বলেন, “সাধারণত সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অফিসে উপস্থিত থাকেন। তবে আজ যারা অনুপস্থিত ছিলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সরকারি অফিসে এ ধরনের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণে সাধারণ জনগণ তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেকেই অভিযোগ করেন, নির্দিষ্ট সময় মেনে অফিসে এসেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের না পেয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয় কিংবা না পেয়ে ফিরে যেতে হয়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা মনে করেন, সরকারি সেবার মান উন্নয়ন এবং জনগণের ভোগান্তি কমাতে কর্মকর্তাদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি।